গাজীপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃত দুই শিশুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
- In -- আইন ও অপরাধ --
- Mar 21, 2021 --
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা থানার পূর্ব কলমেশ্বর এলাকা থেকে দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। এক জনের মৃতদেহ রাজধানীর শ্যামপুর থানার তিনতলা বিল্ডিংয়ের পানির ট্যাংকির ভেতর থেকে উদ্ধার হলেও অপর শিশুর লাশ উদ্ধারের জন্য টঙ্গী তুরাগ নদীর শাখা স্থানীয় বালু নদীতে অভিযান চলছে। এ
ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানা এসআই উৎপল কুমার সাহা গত ১৭ মার্চ (বুধবার) একই থানার বাহার মার্কেট এলাকা থেকে অপহরণকারী আলী আকবরকে এবং ১৯ মার্চ (শুক্রবার) তারগাছ এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আলী আকবর (২৪) মহানগরীর পূবাইল থানার হায়দারাবাদ এলাকার আবুল হোসেনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার পুটিয়া গ্রামের মৃত আলী জব্বার সর্দারের ছেলে এবং আনোয়ার হোসেন (৩০) গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিন খাইলকুর বাহার মার্কেট এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরীর পূর্ব কলমেশ্বর এলাকার সততা মিনি সোয়েটার গেটে খেলা করার সময় অপহরণ হয় তিন বছরের শিশু নিহাদ। ভিকটিম নিহাদের মা নার্গিস বেগম ওই কারখানায় চাকরির সুবাদে সে তার মায়ের সাথে সেখানে ছিলো। এ ঘটনায় অপহৃত শিশুর বাবা গার্মেন্টস শ্রমিক হানিফ আলী গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের পাশ্বর্বর্তী সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপহরণকারীকে দেখা গেলেও তাকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। অবশেষে অপহরণের তিন দিন পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানার তিনতলা বিল্ডিংয়ের পানির ট্যাংকির ভেতর থেকে অপহৃত শিশুর নিহাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই এলাকা থেকে গত ৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় এ্যারাইভ্যাল গার্মেন্টস এর পেছন থেকে সুমাইয়া আক্তার সুমু ওরফে রুবা নামে দুই বছর আট মাসের আরেক শিশু অপহরণ হয়। অপহরণকারীরা শিশু রুবার বাবার কাছে মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবী করে। এ ঘটনায়ও অপহৃত শিশু সুমুর বাবা গাছা থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন। একই এলাকায় পর পর দুটি অপহরণের ঘটনায় টনক নড়ে জিএমপি পুলিশের। পরে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারী আকবরকে প্রথমে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আকবরের দেয়া তথ্যে তার খালাতো ভাই আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইসমাইল হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দুটি অপহরণের দায় স্বীকার করেছে । তারা শিশু সুমাইয়া আক্তার সুমুকে মেরে বস্তায় ভরে তুরাগের শাখা বালু নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। অপরদিকে শিশু নিহাদের হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে তারা দুটি শিশু জনের জামা-কাপড়ের সন্ধান দেয়।
পরিবারকে এসব জামা-কাপড় দেখিয়ে তারা মুক্তিপণ আদায় করার পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে। সুমুর লাশ এখনো খোঁজে পাওয়া যায় নি। তবে লাশটি উদ্ধারে দমকল বাহিনীর সহযোগিতায় বালু নদীতে তল্লাশি চলছে।
1729344490.jpg)
1576306355.gif)
1576304475.gif)