গাজীপুরে প্রতারণাই যার পেশা, রয়েছে একাধিক মামলা

 নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরে নারী দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও ব্যাংক লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইদুর রহমান নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। মহানগরের বৃহত্তর একটি কাঁচা বাজারের এক দোকানদার এ অভিযোগ তুলেছেন। অভিযুক্ত সাইদুর রহমান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার চরমাদান গ্রামের মো. নুর হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত বাসন থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করে আসছেন। একাধিক মামলা ও মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত সাইদুর রহমান। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেলে বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। ওমর ফারুক বাসন থানার বাসিন্দা ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী। প্রতারণার শিকার ওই বাজারের দোকানদার ওমর ফারুকের অভিযোগ, তাকে ব্যাংক লোন পায়িয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতারক সাইদুর তার থেকে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ব্যাংক লোন না পেয়ে সাইদুরের কাছে চার লাখ টাকা ফেরত চাইলে, সাইদুর তার সন্ত্রাসীবাহিনী ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওমর ফারুককে মারার হুমকি প্রদান করে। ওমর ফারুক আরও অভিযোগ করেন, গাজীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. আব্দুস সোবাহানকে নারী দ্বারা ফাঁদে ফেলার জন্য সাইদুর তার কাছে কয়েকজন নারীর সন্ধান করেন। নারী দিয়ে সোবাহানকে ব্ল্যাকমেইলে সহযোগিতায় আর্থিক প্রলোভনও দেখান সাইদুর। এহেন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে রাজি না হওয়ায় ফারুককে নানা ধরনের হুমকিও প্রদান করেন সাইদুর। এমনকি সোবাহানকে নারী কেলেঙ্কারিকে ফাঁসাতে ওমর ফারুকের সহধর্মিণী রিতাকেও একই প্রস্তাব দেন সাইদুর। রিতাকে একলক্ষ টাকার প্রলোভনও দেখানো হয়। একটি ভিডিও বার্তায় এমটিই জানিয়েছেন রিতা। মো. আব্দুস সোবাহান গাজীপুর কাঁচামাল আড়ৎদার মালিক গ্রুপের সভাপতি। এ বিষয়ে সোবাহান জানান, দালিলিকভাবে গাজীপুর চৌরাস্তার কাঁচামাল বাজার সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি বাজারটির পরিচালনা করে আসছেন। প্রতারক সাইদুর তাকে এ বাজার থেকে জোড়পূর্বক ও বে-আইনিভাবে উচ্ছেদ করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত হয়রানি করে আসছে। এ বিষয়ে সোবাহানও আইনের দারস্থ হয়েছেন বলেও জানান। এদিকে ওমর ফারুকের ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাংক লোন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে সাইদুরের বিরুদ্ধে উঠে আসে একাধিক অভিযোগ। গাজীপুর মহানগরের ১৫নং ওয়ার্ডের কাশেম টেক্সটাইলের সাবেক নেতা মোমিনুল ইসলামের মোমিন থেকে ব্যাংক লোনের কথা বলে তিন লাখ টাকা নেন সাইদুর। গাজীপুর চৌরাস্তার মাছ ব্যবসায়ী হাশেমের থেকে নেন ত্রিশ হাজার টাকা। এছাড়াও একাধিক ব্যক্তির থেকে ব্যাংক লোনের কথা বলে হাতিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সাইদুর জামালপুর থেকে এসে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করছেন কয়েক বছর যাবত। এর মধ্যেই সে প্রতারণার ঘাটি গেঁড়ে বসেছে। পুলিশের ভয়, ব্যাংক লোন, নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণাই হচ্ছে তার মূল পেশা। চৌরাস্তায় বসবাসরত আফসানা নামের এক গৃহকর্মী জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝামেলা বাধিয়ে আর্থিক ফায়দা লুটে সাইদুর। পরবর্তীতে সেই ঝামেলা আরো বড় আকার ধারণ করে। এর পেছনে রয়েছে সাইদুরের হাত। পরে ওই নারী ময়মনসিংহ আদালতে সাইদুরের নামে মামলাও দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, সাইদুরের নামে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা বেরিয়েছে তার নামে। সাইদুর এখন পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত সাইদুর রহমান পলাতক থাকায় মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্বব হয় নি। বাসন থানার এসআই মতিউজ্জামান জানান, সাইদুর রহমান, পিতা. মো. নুর হোসেন নামে একটি ওয়ারেন্ট আমরা পেয়েছি। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।সাইদুরের মামলার তদন্তকারী বাসন থানার এসআই ফারুক জানান, সাইদুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। পরে সেটি বাসন থানা পুলিশকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব আসে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।